Showing posts with label BENGALI. Show all posts
Showing posts with label BENGALI. Show all posts

Wednesday, 5 October 2016

পুজোর টানে

পুজো মানে শিউলি কাশ
রেডিও তে মহালয়া
পুজো মানে ঢাকের আওয়াজ     
নতুন জামা পড়া 
পুজো মানে দেদার আড্ডা 
প্রচুর খাওয়া দাওয়া ...........

পুজো মানে মন খারাপ 
আর কলকাতা কে মিস করা !!!

হ্যাঁ, এবারও প্রতিবারের মতন নিজের শহর, সেই তিলোত্তমা কলকাতা,  যেখানে জন্মেছি আর কেটেছে জীবনের অনেক গুলো বছর, ভীষণ ভাবে মিস করছি।  দূর্গা পুজো নিয়ে বাঙালির যে উত্ত্বেজনা, যে উন্মাদনা, যে আনন্দ, সব কিছু থেকে নিজেকে খুব বঞ্চিত বলে মনে হচ্ছে আজ।

ছোটবেলায় দূর্গা পূজা বা শরৎ কাল নিয়ে লিখেছিলাম অনেক রচনা। আজ খুব ইচ্ছে করলো পুজো নিয়ে কিছু লিখি কিন্তু লিখতে বসে মন খারাপটাই  বেশি হলো  আর তাই লেখাটা হয়ে গেলো ছন্নছাড়া।

পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে  গেলো।  মনে পড়ে  গেলো সেই উৎসবমুখর দিনগুলো যখন মহালয়া  থেকেই স্কুল হয়ে যেত ছুটি আর এক মাস শুধু আনন্দ আর আনন্দ।  পুজো শুরু হবার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত চার দিনের প্ল্যানিং। ছোট থেকেই রেডিও তে গান বা নাটক শুনতে ভীষণ ভালোবাসি তাই ভোর চারটের সময় উঠে রেডিওতে মহালয়া কোনো দিন মিস করিনি। 

যবে থেকে পাড়ায় পুজোর লাইট জ্বলতে শুরু করতো তবে থেকেই মনটা কেমন আনন্দে ভোরে যেত।বাড়ির সামনেই একটি দূর্গা পুজো হতো বলা ভালো এখনো হয়। ষষ্ঠীর  দিন ভোরবেলা ঘুম ভাঙতো ঢাকের আওয়াজে।
মা এর মামার বাড়ি উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্কে এবং সেখানে দূর্গা পুজো হয়।  পুজোটা কয়েকশো বছর পুরোনো হবে।  ছোট বেলায় প্রতি অষ্টমীতে সেখানেই যাওয়া হতো।  সকাল বেলায় অঞ্জলি দেওয়া থেকে শুরু করে, ভোগ খাওয়া এবং সন্ধি পুজো অবধি দিনটা সেখানেই কেটে যেত। ষষ্ঠীর  দিন রাতে বাবা গাড়ি করে বিভিন্ন্য প্যান্ডেল ঘোরাতো , সপ্তমীটা থাকতো বন্ধুদের জন্য আর নবমীতে বাড়িতে আসতো কোনো গেস্ট। দশমীতে হতো হুল্লোড়। পিসিরা কাকারা সবাই আসতো দাদু ঠাকুমা কে প্রণাম করতে আর সকাল থেকেই বাড়ি গমগম করতো। সঙ্গে চলতো মা, কাকিমা আর পিসিদের হাতের দারুণ সব রান্না,খাওয়া-দাওয়া আর প্রচুর আড্ডা। তার পর সন্ধেবেলা সবাই কে প্রণাম করে জুটতো পাড়ার মিষ্টির দোকানের চন্দ্রপুলি আর মিহিদানা। 

২০০২ সাল থেকে আর কলকাতার দূর্গা পুজো দেখা হয়নি। মাঝে তিন বছর ছিলাম তার পর আবার ২০০৮ সাল থেকে কলকাতার বাইরে পুজো কেটেছে। পশ্চিম বঙ্গের বাইরে এমন কি দেশের বাইরেও দূর্গা পুজো কাটিয়েছি কিন্তু কোথাও যেন মিস করি নিজের শহরের পুজোর সেই গন্ধটা।

আজ যতই সাজ-গোজ করি আর হৈ  হুল্লোড় করি,  মিস করি সেই রেডিওতে মহালয়া শোনা, ঢাকের আওয়াজে ঘুম ভাঙা, পাড়ার দোকানের সেই চন্দ্রপুলি-মিহিদানা আর উৎসবের দিনে প্রিয়জনদের কাছে পাওয়া। 

আগে খারাপ লাগাটা এতো প্রবল ছিলোনা, কিন্তু যত বয়স বাড়ছে খারাপ লাগাটাও বাড়ছে। একেই বলে বোধ হয় শিকড়ের টান।  





Friday, 13 November 2015

দিদির সঙ্গে খুনশুটির দিনগুলো

বাবা, মা আর কুণাল ছাড়া আমার ঝগড়া করা এবং রাগ দেখানোর আরেকটি লোক হলো আমার দিদি।আজ দিদি ফেসবুকএ আমাদের দুজনের ছোটবেলার একটা ছবি পোস্ট করায় ছোটবেলার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল আর সেই স্মৃতি চারণ করতেই আমার এই লেখা। 

আমি যখন জন্মাই দিদি তখন বছর চারেকের। মা এর কাছে শুনেছি মা নাকি যখন ভোরবেলা স্কুলএ চলে যেত আমার দুধের বোতলটা তৈরী করে দিদির হাতে ধরিয়ে দিলে ওই আমায় দুধ খাইয়ে দিত। 
দিদি আর আমি দুজনে খুবই বিপরীত স্বভাবের সেই ছোট থেকেই। দিদি যতোটাই শান্ত আমি ততটাই দুষ্টু। এই বয়সে নিজেকে দুষ্টু বলাটা কতখানি ঠিক জানি না তবে এখনো মা তো তাই বলে। আর আমার নিজের মেনে নিতেও কোনো অসুবিধা নেই। আমি নি:সন্দেহে খুব পাজি।  ছোটবেলায় আমাদের খুব ঝগড়া ঝাটি এমনকি মারামারিও হত।  মারামারি টা তবে  আমিই শুরু করতাম। তার পর দিদি যখন আমার একটা হাত ধরে বেঁকিয়ে ধরত তখন আমি মা মা করে চিত্কার করতাম। গায়ের জোড়ে কোনো দিনই পেরে উঠতাম না। চুল ধরে টানাটানিও হয়েছে অনেক যাকে বলে চুলোচুলি।  আমার কত চুল যে দিদি তুলে দিয়েছে তাই বোধয় চুলের আজ এই অবস্থা। 

জয়পুর বেড়াতে গিয়ে একটা লেপ কেনা হয়েছিল মনে আছে।  লাল হলুদ রঙের সাটিন এর লেপটা দেখতেও যেমন সুন্দর ছিল, তেমনই ছিল বিশাল বড়। অনায়াসে দুজন গায়ে দিয়ে শোয়া যেত। কিন্তু লেপটা কেনার পর থেকেই আমি ওটা কাউকে নিতে দিতাম না। নিজে একা গায়ে দিয়ে শোব বলে খুব ঝামেলা করতাম।  একদিন ও  দিদিকে  নিতে দিতাম না। দিদিরও খুব ইচ্ছে করত ওটা নিতে কিন্তু আমি খুব জেদাজেদি করতাম। এই নিয়ে অনেক বকাও  খেয়েছি মা এর কাছে। আর যেই একটু গরম পরে যেত তখুনি ভালো মানুষের মতন দিদি কে বলতাম " এবার তুই লেপটা গায়ে দে" ।

যেই একটু বড় হলাম মানে যখন দুজনের জামার সাইজ এক, তখন শুরু হলো আরেক বিপদ। দিদি খুব বলত দুজন দুজনের জামা এক্সচেঞ্জ করে পরার কথা।  আমি আনন্দের সঙ্গে ওর  জামা গুলো পরে বেরোতাম কিন্তু আমার জামা গুলো দিদি পরলেই ঝামেলা করতাম। আর দিদি খালি বলত " কি হিংসুটে রে তুই, একটুও শেয়ার করতে শিখলি না "। 

আরেকটা জিনিস নিয়ে খুব ঝগড়া হত সেটা হলো দুপুরবেলা মা এর পাশে কে শোবে। আমি কিছুতেই দিদিকে মা এর পাশে শুতে দিতাম না।  এমনকি মা কে  মাঝখানেও শুতে দিতাম না। 

তবে এত ঝগড়া মারপিট খুনশুটির  মাঝেও কিন্তু ছিল একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক।  একই ঘরে দুজনে থাকতাম এবং দুজনের দুটো পড়ার  টেবিল ছিল।  আমাদের ঘরটা ছিল তিন তলায় আর মা বাবা থাকত এক তলায়। পড়তে বসেই শুরু হত দুজনের গল্প।  সারাদিন স্কুলএ কি হলো , এটা ওটা আর যেই সিঁড়ি দিয়ে মা এর পায়ের আওয়াজ পেতাম অমনি দুজনেই চুপ।  মা বুঝতে পেরে একদিন কোনো শব্দ না করেই যখন ঘরে ঢুকে পড়ল সেদিন কপালে জুটেছিল  ভীষণ বকুনি আর তার পরেই দুজনের পড়ার  জায়গা হয়ে গেল আলাদা। 

জীবনের একুশটা বছর এক ঘরে এক সঙ্গে কাটিয়েছি দিদির সঙ্গে।  তার পর আমি চলে গেলাম বাইরে পড়তে আর কিছু দিন পর হয়ে গেল দিদির বিয়ে। তার পর থেকে আর কটা রাত যে এক সাথে কাটিয়েছি সেটা গুণে বলে দেওয়া যায়।  এখন দেখা হলে সারা রাত কেটে যায় গল্প করতে। গত পাঁচ বছর তো এক শহরেই থাকা হয়না।  এখন সপ্তাহে একটা দিন স্কাইপিতে কথা বলার জন্য অধীর ভাবে অপেখ্যা করে থাকি।  অনেক সময় নিজেদের ব্যস্ততার কারণে সপ্তাহে এক দিনও হয়ত কথা বলা হয়ে ওঠে না।  

কোথায় হারিয়ে গেল সেই ছোটবেলা। কোথায় হারিয়ে গেল সেই ঝগড়া মারপিট আর খুনসুটি করা।  ভীষণ মিস করি সেই সব দিন গুলো।  ছোটবেলায় মনে হত কবে বড় হবো আর আজ মনে হয় ছোটবেলাটাই ছিল সবচেয়ে ভালো।  







Saturday, 11 July 2015

কুকুরের ফেসবুক একাউন্ট

কুকুর বলে কি আর মানুষ নয়? মটেই না, বরং মানুষ বলে কুকুরকে গালাগালিটা না দেওয়াই ভাল।  কারণ কুকুর আর যাই হোক মানুষের মতন বিশ্বাসঘাতক প্রাণী নয়। কিন্তু আপনারা কি জানেন আজকাল কুকুরাও  ফেসবুক একাউন্ট খুলছে।  এমনকি তাদের  ভালো নাম দিয়েই খোলা হচ্ছে যেমন ধরুণ মৃণালিনী দেবী, গৌরিপ্রসাদ গাঙ্গুলী , দ্বিজেন্দ্রলাল মুখোপাধ্যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। মানে ওই টমি জ্যাকি দের জমানা চলে গেছে বা নেহাতি সেগুলো ডাক নাম হয়েই রয়ে গেছে। পদবিটা তার মালিকেরই ধরে নেওয়া যাক। 

সম্প্রতি একজন সেলেব্রিটির ফেসবুক একাউন্টএ চোখ পরতেই ব্যপারটা নজরে  এলো। উনি নিজের পোষা কুকুরের নামে একখানি ফেসবুক একাউন্ট খুলেছেন। শুধু তাই নয় ইতি মধ্যে ওই অবলা প্রাণীটির তিনশোর উপর ফ্রেন্ডস। হে ভগবান তাও যদি বুঝতাম সবাই তারই সমগত্রীয়, কিন্তু তা তো নয় সবাই যে ওই সেলেব্রিটিরই ফ্যান মানে সেই হিংস্র মানুষগুলোই । আচ্ছা কুকুরটি কি জানে যে তার মালিক একজন সেলেব্রিটি ? 

কুকুর্ প্রেমী বন্ধুগণ, প্লিস কেউ ব্যপারটা পার্সনালই নেবেন না। আমার ব্যপারটা একটু অদ্ভুত লাগলো এবং মজারও বটে তাই আরকি দু চার কথা না বলে পারলাম না। যদি কারোর কোন পোষ্য থাকে তাহলে তো সে তার নিজের একাউন্ট এই তার ছবি বা কোনো ভাল লাগার মুহূর্তকে শেয়ার করতে পারে।  আলাদা করে আবার তার নামে একাউন্ট খোলার মানেটা ঠিক আমার  মোটামাথায় ঢুকলো না। 

Wednesday, 8 July 2015

The most Romantic Walk I ever walked....

Yesterday while reading some news about Darjeeling, suddenly I remembered the trip that we planned after marriage. Back in 2008, Kunal and me decided to go to Darjeeling but because of certain political disturbances there, that time we had to cancel our dream tour and planned to visit some other places of the Dooars region of West Bengal. After spending two days at Jaldapara, we came to Murti located in the Jaipaiguri district and stayed in a cottage of West Bengal Tourism and Development Corporation Ltd. There we planned to stay for three more days but within two days we visited almost all the places we could and so one more extra day to do nothing. 

But we didnt want to waste that extra day by sitting in the hotel and so after having our breakfast we took a van and went to Chalsa, a small town in Jalpaiguri district.  From there we took a bus and reached Samsing, a small hill village and a famous tourist spot.  It is needless to say about the scenic beauty of the Dooars region. Since its very near to Darjeeling district and because of the indefinite bandh going on that time at Darjeeling the place seemed to be very quiet. We hardly saw any tourist except a few local people. We didnt know where to go and which way to go.  We had neither GPS nor a google map with us, so we kept on walking towards the hill. After a while we asked someone and came to know that after walking a couple of kilometers we would reach Rocky Island, another tourist attraction but since that would fall under Darjeeling district, it would not be safe to go there  because of the Bandh.

But the mesmerizing beauty, the fresh air, the beautiful landscape and the quietness all around tempted us and thus we couldn't resist to walk towards Rocky Island. Not even for a moment we were scared, rather quite excited to walk all the way towards our destination. We bought some candies from a shop and started walking. Except us there were not a single human being on road. Both of us were totally engrossed in the endless beauty of glistening green and the blue sky. Suddenly we saw a dog was following us. At first I was little scared but it never barked. We gave him some biscuits and he kept walking with us. We passed by the little houses located here and there in the corners of the hills. At first I thought it would be quite hectic to walk but the endless beauty never made me tired. After walking quite a long, we heard the soothing sounds of flowing water and realized that we are very near to our destination. Finally when we reached the Rocky Island, we became speechless by the beauty of undisturbed nature and spend an hour  along the river side. Few shops were located  by the side of the river but not a single one was opened. Located on the banks of River Murti, I found it to be a heavenly destination.


I was not in a mood to leave that place soon but we had to because it was becoming dark. The sun was about to set and so we again started walking back. Strangely this time also the dog  followed us till we reached Samsing. On our way we were quite hungry and had some noodles in a small shop which was about to close. Since there were few minutes left to leave the bus, we roamed around the place and suddenly came across a place where the road has ended abruptly and we found a deep valley with steep sides alongside of which was standing a dilapidated tea garden villa. Through the glass windows we saw how beautifully decorated it was and for a moment I envied those lucky ones who lived there. Finally we came to know that the bus has been cancelled. It was almost dark by that time but fortunately we got a jeep that brought back us to the hotel.

First time in my life I enjoyed walking a long distance. This time my legs were not paining and not even for a moment I was tired. Rather it was quite refreshing. While walking, I wished this walk to be never ending. Perhaps I fell in love with  nature and its breath taking views. 

Monday, 6 July 2015

ভূটান থেকে ফেরার পথে

প্রাণ হাতে নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা আগে অনেক শুনেছিলাম  কিন্তু সত্যিই নিজের জীবনে  যে এরকম একটা অভিজ্ঞতা কোনদিন হবে স্বপ্নেও  ভাবিনি। ১৯৯৯ সালে গরমের ছুটিতে আমরা ভূটান বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমার এক মামাত দাদা তখন কর্ম  সূত্রে ফুন্টসিলিংএ পোস্টেড্। ফুন্টসিলিং থেকে পারো থিম্পু  ঘুরে আবার ফুন্টসিলিংএ ফিরে এসেছিলাম। যেদিন ফিরলাম তার পরের দিন ছিল আমাদের ট্রেন, নিউ আলিপুর দুয়ার থেকে। কিন্তু সেই রাত থেকেই শুরু হলো ভয়ঙ্কর বৃষ্টি।  

দাদার বাড়ির ঠিক পিছন দিয়েই বয়ে গেছিল তর্ষা  নদী।  যেদিন পৌঁছলাম সেদিন আমরা রীতিমত পায়ে হেঁটেই নদী এপার অপার করেছিলাম। কিন্তু সেই বৃষ্টির রাতে টের পেয়েছিলাম  শান্ত নদীও যে এমন ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে। রাতে শুয়ে আমাদের কারুরই ঘুম আসছিল না। নদীর উপর পাথর ভেঙ্গে পড়ার  সে কি সাংঘাতিক  আওয়াজ। পর দিন সকালে আমরা যখন রওনা দিলাম তখন বাড়ি থেকে বেড়িয়েই মনে হয়েছিল আদৌ কি আমরা স্টেশনএ পৌঁছতে পারব? ভূটান পার হয়েই ভারতের যে জায়গাটা তার নাম জয়গা।   দেখলাম ভূটান আর ভারতের মাঝখানের রাস্তাটা ভেঙ্গে গিয়ে নদীর জল বইছে।  আর সেই জলের স্রোতে যদি কেউ ভেসে যায় তাকে  আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা। যে ভাবেই হোক রাস্তা পার হতে না পারলে স্টেশন পৌঁছন  যাবে না। দেখা গেল কিছু স্থানীয় লোক এক ধরণের ট্রলি গাড়ি করে লোকজনকে পারাপার করতে সাহায্য করছে। সাধারণত ওই গাড়িতে শাক সবজি ফল এসব বোঝাই করা হয়।  অবাক লাগলো দেখে যে এই মানুষগুলো তাদের নিজেদের জীবন বিপন্ন করে অন্যকে সাহায্যের হাত বাড়িযে দিয়েছে।  আমরাও অগত্যা ওই গাড়িতে চেপে ভাঙ্গা রাস্তা পার হলাম। জলের স্রোতে একবার গাড়িটা অন্য দিকে ঘুরে যাওয়ায় এক  মুহুর্তের জন্য মনে হয়েছিল এখানেই জীবন শেষ কিন্তু তখনও অনেক বাকি।  ভগবান আড়ালে হাসছিলেন নিশ্চই। ।গাড়ি ঠিক করাই ছিল। কোনো রকমে  রাস্তার এপারে এসে আমরা গাড়িতে করে নিউ আলিপুর  দুয়ার স্টেশনএ যদিও বা পৌঁছলাম, গিয়ে জানতে পারলাম আমাদের ট্রেন অর্থাৎ  কামরূপ এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে কারণ ট্রেন ছাড়ার আগেই ট্রেনএ বোমা পাওয়া গেছে। পরের কোনো ট্রেনএ বিনা  রিসার্ভেসান ছাড়া যাওয়া সম্ভব নয়, এদিকে  উত্তর বঙ্গে বন্যা শুরু হয়ে গেছে তাই কোনো হোটেলে না থেকে সেখান থেকে বেড়িয়ে পরাই মঙ্গল।  এই ভেবে ডিসিশন নেওয়া হলো যে বাসে করে কলকাতা যাওয়া হবে। তখন কে জানত বিপদ আমরা নিজেরাই ডেকে  আনছি।



ফোন করে জানা গেল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কলকাতা যাবার  একটা বাস ছাড়ছে , সেটা ছিল  উত্তর বঙ্গ স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পরেসনের বাস। আমরা তরিঘড়ি রিকশা করে মাল পত্র নিয়ে বাস গুমটিতে পৌঁছলাম।  দেখা গেল বাসে মাত্র বারো জন যাত্রী। আমরাই ছিলাম আট জন।  বাসে উঠে প্রথমেই দেখলাম কথা থেকে যেন জল পড়ছে।  ওরে বাবা, এ যে  বাসের ছাদ  ফুটো আর সেখান থেকেই পড়ছে  জল।  যাই হোক বাস ছাড়ার  কিছুক্ষণ পর আমরা লক্ষ্য করলাম যে বাসটা একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ব্যপারটা জানার জন্য যখন বাসের হেল্পারকে জিগ্গেস করা হলো, সে বলল বাসের ব্রেকটা একটু গন্ডগোল করছে তাই আরকি টেস্ট করা হচ্ছে। হে ভগবান , এই অবস্থা সরকারী বাসের। নামারও উপায় নেই চারিদিকে বন্যার জল।  সেই সময় ভগবানের নাম করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।  অতি বড় নাস্তিকও তখন ভগবানকে ডাকবে। উত্তর বঙ্গে বন্যার খবর আমরা কাগজে পরেছি বা টিভিতে দেখেছি  কিন্তু সেই বন্যা নিজের চোখে দেখে বুঝেছিলাম কতটা ভয়ানক।  এক একটা ব্রিজের উপর দিয়ে যখন বাস যাচ্ছে মনে হচ্ছিল এই বুঝি ভেঙ্গে পড়বে।  এমনি অবস্থা সেই সব ব্রিজের যে একটা গাড়ি এপার থেকে ওপারে গেলে তবেই  আরেকটা গাড়ি ব্রিজে উঠছে, মানে দুটো গাড়ি এক সাথে ব্রিজে উঠলেই ভেঙ্গে পড়ার  সম্ভবনা।  আর ভেঙ্গে পরলেই পড়তে হবে সোজা নদীর জলে। মোটামোটি আমি সারা রাস্তা চোখ বন্ধ করেই ছিলাম, কারণ চোখ খুললেই সেই ভয়ানক বন্যার ছবি ভেসে উঠছিল।

এর মধ্যে একবার বাসটা খারাপ হয়েছিল। কি জানি গাড়ির ইঞ্জিনে কি যেন সমস্যা হয়েছিল কিন্তু ড্রাইভার সেটা তাড়াতাড়ি ঠিক ঠাক করে  বেশ জোড়েই বাস চালাতে শুরু করলো। বিপদ অনেকটা কেটে গেছে। প্রায় সন্ধ্যে  আটটা নাগাদ আমরা শিলিগুড়ি পৌঁছলাম।  সেই কোন সকালে বেড়িয়েছিলাম , খাওয়া দাওয়া কিছুই হয়নি।  শিলিগুড়ি  পৌঁছে তড়কা রুটি খেয়ে মনে হচ্ছিল কতদিন পর আবার খেলাম। আমরা ছাড়া বাকি যাত্রীরা শিলিগুড়িতেই  নেমে গেল আর কিছু নতুন যাত্রী আবার বাসে উঠলো। বাস আবার চলতে শুরু করলো। রাতে সবে যখন চোখ লেগেছে আমাদের, ঠিক সেই সময় বাসটা  ভীষণ  জোড়ে ব্রেক  মেরে থেমে গেল।  ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম তখন বাজে প্রায় রাত দুটো। বাসের চাকা ফেটে গেছে। । রাস্তা ঘুটঘুটে অন্ধকার। সবাই বলল এলাকাটা  ভালো নয় , কেউ যেন বাস থেকে না নামে।  কি কান্ড,  এদিকে আবার অন্ধকারে চাকা  বদলাবে কি করে?  অগত্যা বাবা টর্চ নিয়ে বাস থেকে নামল, ড্রাইভার চাকা বদলালো টর্চের আলোয়।  মনে মনে ভয় হলো কি জানি চাকাটা ঠিক ঠাক  লাগলো কিনা। হয়ত দেখব ঘুমের মধ্যেই সবাই শেষ। যাই হোক আবার বাস চলতে শুরু করলো, কিন্তু এবার বেচারা আর টানতে পারল না। ভোর  চারটে নাগাদ  মালদার কাছাকছি একটা জায়গায় এসে বাস একদম বন্ধ হয়ে গেল এবং ড্রাইভার  হাত তুলে নিয়ে বললো  বাস আর চলবে না,  গ্যারেজএ নিয়ে যেতে হবে। আমরা মাল পত্র নিয়ে একেবারে রাস্তায়।  সেটা ছিল একটা হাইওয়ে।  একটা খড়ের গাদার উপর বসে আছি সবাই।  তবে ড্রাইভার এর কি জানি দয়া হলো, বলল যে সে কোনো কলকাতাগামী বাস দেখলে দাঁড় করিয়ে আমাদের তুলে দেবে। অবশেষে কিছুক্ষণ  পর একটা বাসে আমরা উঠলাম যেটা একদম কলকাতার উল্টডাঙ্গায়  এসে পৌঁছবে।

আমাদের প্রায় চব্বিশ ঘন্টা জার্নি করা হয়ে গেছে, সবাই ভীষণ ক্লান্ত, শুধু অপেক্ষা কখন বাড়ি পৌঁছব।  এই বাসটা  ছিল একটা লোকাল বাস।  প্রচন্ড ভিড়, ক্রমাগত লোকজন উঠছে নামছে।  আমরা কজন বসার জায়গা পেয়েছিলাম বটে কিন্তু হঠাত দেখি আমার পাশে একজন লোক বসে আছে আর তার থলি থেকে দুটো মুরগি উঁকি মারছে।  এটা দেখেই  আমার অস্বস্তি আরো বেড়ে গেল। তার উপর  একটা  ট্রাফিক জ্যামএ বাসটা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে ।  পাশে দাঁড়িয়েছিল পাকা আম বোঝাই ওরা একটা ট্রাক। মালদায় তখন চল্লিশ ডিগ্রী গরম। ওই গরমে আমের গন্ধে গা গুলিয়ে উঠেছিল । আমাদের কারুরই তখন আর কথা বলবারও  শক্তি  ছিলনা। কৃষ্ণনগর এসে পৌঁছলাম দুপুর দুটোয়।  অসম্ভব জোড়ে বাস চলছিল। মনে হচ্ছিল যেকোনো মুহুর্তে কোনো সামনের গাড়িতে বা একটা গাছে ধাক্কা লেগে সবাই প্রাণ হারাব। যাই হোক  প্রাণ হারাতে হয়নি। সে যাত্রায় আমরা সবাই বেঁচেই বাড়ি ফিরলাম।

এতটাই ঘোরে  ছিলাম যে বাড়ি ফিরে দরজায় ঢোকার সময় মনে  হলো বাড়ির পাশটা এত সাদা লাগছে, এই গরমে কলকাতায় এখন আকাশে কুয়াশা কথা থেকে এলো? আসলে সেটা কুয়াশা নয়, পাশের বাড়িটা ভেঙ্গে প্রমোটিং হবে, যাবার সময় দেখেছিলাম বাড়িটা ভাঙ্গছিল এসে দেখলাম পুরো ভাঙ্গা হয়ে গেছে আর  সেখানটা একদম খাঁ খাঁ করছে। আর মনে মনে ভেবেছিলাম, বর্ষায় কোনো দিন আর পাহাড়ে বেড়াতে যাব না। 

Friday, 3 July 2015

মানুষের কৌতূহলি মন

যতই আমরা উন্নতি  করি আর মডার্ন হই, কিছু স্বভাব মানুষের আর পালটাল না।  সেই ছোট থেকে দেখছি খালি স্বার্থপরতা , অন্যের ব্যপারে নাক গলানো আর কৌতূহল।  আর মজার ব্যপার হলো অন্য কেউ বিপদে পড়েছে বা দুঃখে  আছে দেখলে যতই মুখে সহানুভূতি দেখাক মনে মনে একটা আনন্দ অনুভব করে আর ভাবে যাক বাবা আমি তো নিরাপদে আছি।  খালি আমি আমি করেই গেল।  নিজে ভালো থাকব ভালো খাব বড় ফ্ল্যাট  কিনব বড় গাড়ি কিনব ছেলে মেয়ে ভালো স্কুলএ পড়বে।  নিজের ভালো কে না চায়  কিন্তু শুধু  কি নিজের ভাল তা  নয়, অন্য সকলের চেয়ে ভালো হতে হবে , সবাইকে টেক্কা দিয়ে বেস্ট হতে হবে।    

ছোটবেলায় মনে আছে  পরীক্ষার পর রেসাল্ট বেরোনোর দিন আমার বাবা মা এর চেয়ে কৌতুহলী হত আম্তীয়স্বজন  ও পাড়া প্রতিবেশী । কি জ্বালা, আমার পরীক্ষা খারাপ হলো না ভালো হলো সেটা আমি বা আমার বাড়ির লোক বুঝবে অন্যের কিসের এত কৌতূহল  আমি কোনো দিনই  বুঝি নি।  এমনো  দেখেছি, ফোন করে খবর নিচ্ছে  কোন বিষয় কত নম্বর পেলাম।  এখন বুঝি আসলে মিলিয়ে দেখা নিজের ছেলে মেয়ের থেকে খারাপ হলো না ভালো হলো।  খারাপ হলে দারুণ  আনন্দ আর ভালো হলে বেশি কথা না বাড়িয়ে ফোন রেখে দেওয়া। এত গেল স্কুলএ পড়া কালীন আর বোর্ড এর পরীক্ষার সময় আর দেখতে হবে না।  কোন আম্তিয়ের ছেলে  বা মেয়ে বা কোন প্রতিবেশীর ছেলে  এবারে মাধ্যমিক বা উচ্ছ মাধ্যমিক দিচ্ছে  একেবারে খুঁজে খুঁজে বার করা। তার পর সে সাইন্স পড়বে  না কমার্স পড়বে  না আর্টস পড়বে , সে নিয়ে কি মাথা ব্যথা। সাইন্স না পড়লে কি আর জীবনে উন্নতি  হবে?  কমার্স বা আর্টস পড়ে হবে টা  কি?এসব মন্তব্য অনেক শুনেছি। সাইন্স পড়ে জয়েন্ট দিয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে নাহলে যে মা বাবার মান সম্মান রইলো না।  আরে বাবা জয়েন্ট না পেলে তো আবার জীবন বৃথা।  জেনারেল লাইনএ  পড়ে হবে টা  কি ?  দাঁড়াতে যে   অনেক সময় লাগবে।   আচ্ছা আমি কখন কি ভাবে  দাঁড়াব না  বসব তা তে আরেক জনের  কি এলো গেল বুঝি না ।  স্কুল পেড়িয়ে  কলেজ বা হায়ার এডুকেসনেও  চলে নানান মন্তব্য আর টিটকারী।  

এত গেল ছাত্র জীবন, এর পর  কর্ম জীবনেও শান্তি নেই। কার ছেলে মেয়ে কত আগে চাকরি পেল কত টাকার প্যাকেজ, উফ এই নিয়ে বাবা মাদের কি কম্পিটিসন।  সব  সময় ঠিক বয়সে সব ঠিক ঠিক হতে হবে।  তাই চাকরির পরেই  চলে এলো বিয়ের প্রস্তাব।  মেয়ে সাতাশ বছর বয়স হয়ে গেল, বিয়ে দেবেন না? নাকি নিজেই ঠিক করে রেখেছে? তা পাত্রটি কে ? কলেজের বন্ধু নাকি এক অফিসেই চাকরি করে ?  এটা হলো যে কোনো মাকে, যার মেয়ের বয়স সাতাশ বা আঠাশ হয়ে গাছে, যে কোনো বিয়ে বাড়ি বা অনুষ্ঠান বাড়িতে কোনো  না  কোনো কাকিমা মাসীমা বা পিসিমা জিগ্গেস করবেই।  আচ্ছা কেউ তো বিয়ে নাই করতে পারে।  সেটা জানতে পারলে তো আর কৌতূহলের শেষ থাকবে না।  যতক্ষণ  না অন্যকে আড়ালে গিয়ে  ফিসফিস করে খবরটা দিতে পারছে ততক্ষণ কোনো খাবারি  হজম হবে না।  শুধু মেয়ে কেন ছেলের মায়েদেরও এই প্রশ্নের উত্তরের মুখোমুখি হতে হয় বই কি।  আচ্ছা এত কৌতূহলের কি আছে, কে কখন কা কে বিয়ে করলো কি না করলো সে তো নেমন্তন্ন  পেলেই জানা যাবে। নিজের ছেলে মেয়ের বিয়ের জন্য নিজের বাবা মার যতনা মাথা ব্যথা তার চেয়ে ঢের  বেশী  চিন্তা পাড়া  প্রতিবেশী ও আম্তীয় স্বজনের। 

আচ্ছা বিয়ে না হয় হলো কিন্তু বিয়ের পর দু তিন বছরের মধ্যে যদি আবার ছেলে পুলে না হয় তাহলে তো তাদের ঘুম চলে যাবার অবস্থা। নিজে থেকে ডেকে জিগ্গেস করবে, কি কোনো প্রবলেম  আছে নাকি?  আজকাল অনেক ট্রিটমেন্ট হয় ভালো ডাক্তার ও আছে অনকে। আচ্ছা আমরা নিজেদের সভ্য বলি কি করে? এ ধরনের ব্যক্তিগত  এবং সেন্সিটিভ ব্যপার গুলো নিয়ে মানুষ কি করে অন্যের সম্পর্কে এত কৌতূহলী হয়? আমার পরম বন্ধুকেও আমি কোনদিন এই ধরণের প্রশ্ন করব না যদি না সে নিজে থেকে তার সমস্যার কথা আমার সঙ্গে শেয়ার করতে চায়। আমার মনে হয় এই ধরণের  প্রশ্ন  যারা করে তারা সামনের জনকে শুধু মাত্র দুঃখ - বেদনা  দিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে চায়।

আবার কোনো মেয়ে যদি তার সন্তান জন্মানোর পর নিজের চাকরি বা কেরিযার ছেড়ে দিয়ে ঘর সংসার করে তাতেও সমস্যা। এত পড়াশুনো শিখে  কি লাভ হলো ? সারা জীবন কি রান্না বান্না আর ঘরের  কাজই  করবে? আরে বাবা যার জীবন তাকে  ভাবতে দাও না, সে কি করবে না করবে সেটা তার ব্যপার। যদি কেউ সেটা করেই আনন্দ পায়ে তা তে ক্ষতি কি?  আর ভবিষ্যতেই বা সে কি করবে সে তো সময় হলেই জানতে পারবে এত তাড়া  কিসের ?

তবে এখানেই শেষ নয়, অন্যের জীবনে প্রতি নিয়ত কি ঘটছে সেটা জানার ইছের কোনো শেষ নেই। অন্যের ব্যপারে নাক গলানো আর অতরিক্ত কৌতূহল মানুষের এমন একটা স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে যে,মাঝে মাঝে সে ভুলে যায় যে তার এই  স্ব্ভাবের জন্য অন্য একজন বিরক্তও  হতে পারে আবার দুঃখও পেতে পারে । কেন জানিনা মাঝে মাঝে মনে হয় মানুষ ছাড়া অন্য জীব জন্তুরাও কি এত কৌতূহলী? নিশ্চই না , তাই তো আজ আমরা মানব সভ্যতাকে নিয়ে এত গর্বিত।




Monday, 29 June 2015

শিমুলতলায় ভূতের ভয়

 ঘুমের আগে রেডিও শোনাটা খুব ছোট থেকেই  অভ্যেস।  কলকাতা ছাড়ার পর রেডিও  শোনাও ছেড়ে দিয়েছি।  কিন্তু ঘুমের আগে হয় গান বা নাটক কিছু একটা না শুনলে আমার ঘুম আসেনা। তাই কদিন ধরেই রাতে শুতে যাবার আগে সানডে সাসপেন্স শুনছি ইউটুবেএ।  ঘর অন্ধকার করে শুয়ে শুয়ে ভুতের গল্প শুনতে যে এত ভালো লাগে তা আগে জানতাম না।  গতকাল রাতে এমনি একটা ভুতের গল্প শুনতে শুনতে মনে পরে গেল আমার ছোটবেলায়  শিমুলতলায় বেড়াতে যাবার কথা।  বছরটা ঠিক মনে পরছে না, তবে আমি তখন  সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি।  প্রতি বছর আমরা পুজোর সময় কলকাতা ছেড়ে কোথাউ না কোথাউ বেড়াতে যেতাম। তা সেবার মনে আছে ঠিক হলো  শিমুলতলা যাবার।  উদ্যোক্তা  ছিলেন আমার বাবার এক বন্ধু।  ঠিক হলো অষ্টমীর দিন রওনা দেব আমরা। 
আমরা সর্বসাকুল্যে ছিলাম আট জন।  আমি, বাবা, মা ও  দিদি আর আমার বাবার বন্ধুর পরিবার। তারা ছিল আরো চারজন।  মনে আছে ছোটবেলায় কোথাউ বেড়াতে যাবার সময়  যাবার আগের দিন গুলো ছিল ভীষণ আনন্দের।   বিশেষ করে মা যখন সুটকেস  বার করে গোছগাছ শুরু করত।  সেবারেও ঠিক তেমনি আমরা হই হই করে গোছগাছ শুরু করে দিলাম কিন্তু যাবার দিন তুমুল বৃষ্টি। মনে আছে বাড়ির সামনে অবধি ট্যাক্সি আসেনি, আমরা মাল পত্র নিয়ে জল পেরিয়ে বড় রাস্তা থেকে ট্যাক্সি ধরেছিলাম। মানে যাত্রার শুরুটাই কেমন যেন এলোমেলো হলো।  যাই হোক আমরা  কোনরকমে শিয়ালদাহ স্টেশনএ পৌঁছে দেখি প্লাটফর্মে কি সাংঘাতিক ভিড়। মুজ্জাফারপুর এক্সপ্রেস ছিল, কেউ কোনো রিসারভেসন মানছিল না।  আমাদের রিসারভেসন থাকা সত্তেও কোনরকমে ট্রেন এর কামরার ভিতরে যে যার মত ঠেলেঠুলে জায়গা করে বসতে হলো। এত ভিড় ছিল যে বাড়ি থেকে করে নিয়ে যাওয়া লুচি তরকারী সব বাগের ভিতরেই নেতিয়ে গেল।  

যাই হোক কোনরকমে আমরা শিমুলতলা স্টেশনএ পৌঁছে সবাই যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। শিমুলতলায় থাকার জন্য একটি পুরনো বাড়ি ঠিক করা হয়েছিল। বাড়ির মালিক থাকে কলকাতায় আর ওনার শিমুলতলার বাড়িটিকে  গেস্ট হাউস  হিসেবে ভাড়া  দেন।  কিন্তু  কি বিপদ, বাড়িটিতে পৌঁছে জানা গেল যে ওখানে কোনো ইলেকট্রিসিটি নেই।  মানে রাস্তার যে পারে আমাদের থাকার কথা ঠিক সেই দিকেই নাকি ইলেকট্রিসিটি পৌঁছয়নি কিন্তু রাস্তার অন্য পারেই আলো।
আমরা ভেবেই পেলাম না যে কি করে দিন  চারেক বিনা ইলেকট্রিসিটি তে আমরা থাকব।  কিন্তু উপায় নেই, এসে যখন পরেছি তখন বাকি কটা  দিন থাকতেই হবে।  আর পুজোর সময়, অক্টোবর মাস তখন, গরম তো ছিলই না বরং একটু ঠান্ডা ঠান্ডা পড়ে গেছিল তাই পাখার প্রয়োজন তেমন ছিল না। আর সন্ধের পর  হারিকেনের আলো আর আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া টর্চ ছিল ভরষা। 

 একটি রান্নার লোক মজুত ছিল।  সন্ধেবেলা ওই ভিড় ট্রেনএ না খেয়ে দেয়ে আমরা যখন পৌঁছলাম আর যখন সেই রাঁধুনি আমাদের ভাত আর মুরগির ঝোল রেঁধে দিল, সেই খেয়ে মনে হলো যেন অমৃত। বাড়িটার বর্ণনা দিতে ভুলেই গেছি।  প্রায় দু তিন বিঘে জমি নিয়ে বিশাল একখানা বাড়ি আর বাড়িটার চারিদিকে ফল ফুলের বাগান মানে সমস্ত জমির ঠিক মাঝখানে বাড়িটা। পাশের বাড়িটা ছিল অনেক দূরে।  বাড়িটার যে দিকটা গেস্ট হাউস সেখানে মোট তিনটি ঘর আর প্রত্যেকটা ঘরের মধ্যে দিয়ে প্রত্যেকটা ঘরে যাওয়া যায়।  ঠিক হলো প্রথম ঘরটিতে কাকু তার ছেলে কে  নিয়ে শোবেন, দ্বিতীয় ঘরটি তে আমার বাবা একা শোবেন আর শেষের ঘরটি তে আমরা সব মেয়েরা শোব। যাই হোক খাওয়া দাওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে আমরা যখন শুতে গেলাম তখন বেশ রাত।  আমাদের ঘরের জানালাটা খুলে রাখা হয়েছে, আমি শুয়ে শুয়ে দেখছিলাম চাঁদের  আলোটা কি ভাবে যেন বাড়ির পিছনের বড় বড় গাছগুলোকে ভেদ করে আমাদের বিছানায় এসে পড়েছে। শোবার কিছুক্ষণ পড়েই কিসের যেন একটা শব্দ হলো।  আমি শুনলাম , আর কেউ শুনলো কিনা ঠিক বুঝতে পারলাম না।  আমি জানালার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবছি আচ্ছা কেউ যদি ঢুকে থাকে তাহলে সে কি ওই  জানলাটা দিয়ে ঢুকলো কারণ দরজা তো বন্ধ।  তার পর ভাবলাম ভূত নয় তো, কারণ সাধারণত গল্পের বইতে এরকম অনেক পড়েছি।  সবাই  চুপচাপ শুয়ে আছে দেখে আমিও আর কিছু বললাম না।  কিন্তু আওয়াজটা আবার একবার হলো।  খুটখাট খুটখাট একটা শব্দ। পাশে মা শুয়ে ছিল, আর পারলাম না, জিগ্গেস করলাম কিছু শুনতে পেলে।  মা বলল হ্যা। তার পর আমাদের গলার আওয়াজ পেয়ে বাকিরাও যারা ওই ঘরেই ছিল বলল সবাই একটা শব্দ শুনতে পাছে।  আওয়াজটা ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো, মনে হলো ঘরের মধ্যে দিয়ে কে যেন হেঁটে যাচ্ছে।  কি ভয়ংকর ব্যপার , আমরা সবাই কাঠ হয়ে শুয়ে রইলাম। তার পর মনে হলো কে যেন আমাদের ব্যাগ খুলছে বা ব্যাগ থেকে কিছু বার করছে। মনে হলো চোর  নাকি  তাহলে তো  আর চুপ করে থাকা যাবেনা। তখন আমি চিত্কার করে বাবাকে ডাকলাম বাকিরাও  ডাকাডাকি শুরু করলো। বাবা সঙ্গে সঙ্গে পাশের ঘর থেকে টর্চ নিয়ে ছুটে এলো।  না কিছুই তো নেই।  টর্চের আলোয় ঘরে কিছুই তো দেখা গেলনা।  শুধু আলো পরতেই একটা বড় ঈদূর ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।  অত বড় ঈদূর আমি আগে কখনো দেখিনি।  রাত আর বেশি বাকি ছিল না কিছুক্ষণ পরই ভোর হয়ে গেল।  
সকাল বেলা উঠে দেখা গেল আমাদের খাবারের ব্যাগটা  পুরো  কাটা আর সমস্ত খাবার মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সমস্ত বিসকুট আর চানাচুরের প্যাকেট গুলো ছেঁড়া।   বোঝা গেল এ সমস্তই  ওই ঈদুর বাবাজির কাজ।  যাকে মনে হচ্ছিল ঘরের মধ্যে হেঁটে যাচ্ছে সে আর কেউ নয় ওই ধেরে ঈদুরটি।  পর দিন সকালে ভূতের রহস্য উদঘাটন হতে সবাই বেশ মজা পেয়েছিলাম তবে বাড়ি থেকে আনা সমস্ত খাবার জলে গেল। 
  
বাকি কটাদিন আমরা বেশ হই হই  করে কাটিয়ে দিলাম। দুর্গাপুজোর ওই দিন গুলোয় কলকাতার রাস্তাগুলি যখন আলোয় ঝলমল করছে, তখন  বিনা  ইলেকট্রিসিটিটে  আমরা কিন্তু বেশ আনন্দ করেই কাটিয়েছিলাম শিমূলতলার সেই ভুতুরে বাড়িটিতে। আর  শিমুলতলার  ওই প্রথম রাতের ঘটনা  চিরকালের মতন স্মৃতিতে  গেঁথে গেল।  

Tuesday, 23 June 2015

ভূতের রাজার তিন বর

ছোটবেলায় দেখা সব চেয়ে ভাল লাগা সিনেমা হলো সত্যজিত রায়ের গুপী  গাইন   বাঘা  বাইন । সিনেমাটার প্রধান আকর্ষণ ছিল ভূতের রাজা এবং গুপী বাঘাকে দেওয়া তিন বর।  শুধু ছোটবেলা কেন বড় হয়েও যখুনি সুযোগ পেয়েছি সিনেমাটা দেখেছি এবং আবারো বার বার  দেখতে চাই।  যতবার দেখি ততবার যেন নতুন করে ভালো লাগে। কি অনবদ্য সৃষ্টি।  
আজ দুপুরে ছেলেকে ইউটুবে সিনেমাটা চালিয়ে দিলাম, ভাবলাম যদি দেখে একটু মজা পায়ে। দেখলাম সেই ভূতের   রাজার গানটাই সব চেয়ে বেশি আকর্ষণ  করলো এবং তার পর থেকেই ওই গানটাই  বার বার  শুনতে চাইছে। আমার দেখে খুব মজা লাগলো আর তখুনি মনে হলো আচ্ছা যদি আমিও  ভূতের রাজার দেখা পেতাম আর যদি সে আমাকে তিনটে বর দিতে চাইত  তাহলে আমি কি কি চাইতাম। 

প্রথমেই চাইতাম এমন এক ক্ষমতা যার ফলে আমি যখন খুশি যেন অতীতে চলে যেতে পারি। বলা ভালো এক ধরনের টাইম মেশিন। অতীত মানে আমার জীবনেরই আগের  বছর গুলো নয়, যেন চলে যেতে পারি যেকোনো সভ্যতার যুগে। তা সে মহেঞ্জদর হরপ্পা ও হতে পারে, মুঘল যুগ ও হতে পারে আবার সম্রাট অশোকের রাজ্যও হতে পারে। ছোটবেলায় ইতিহাস বিষয়টা স্কুলএ কখনই ভালো লাগত না কারণ এত তারিখ আর নাম মনে রাখতে হত।  কিন্তু বড় হয়ে কেন জানিনা ইতিহাসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে গেছে । এখন সময় সুযোগ পেলেই ইতিহাস নিয়ে পড়তে ভালো লাগে, ভীষণ ইচ্ছে করে সেই সময় টাকে নিজের চোখে দেখতে। তাই ভূতের রাজার প্রথম বর আমি এটাই চাই।  যখন খুশি যেমন যেতে পারি তেমন যখন খুশি যেন ফিরেও আসতে পারি। দেখতে চাই তখনকার মানুষজন কেমন ছিল, কেমন ছিল তাদের সাজ পোষাক, খাওয়া দাওয়া এবং একে অপরের সঙ্গে ওঠাবসা । বই এর পাতায় বা ইন্টারনেট এ  হয়ত এ সব কিছু নিয়েই  বলা থাকে  কিন্তু পড়ে  যত না সুখ নিজের চোখে দেখার মজাই আলাদা । টেলিভিশন , মোবাইল, ইন্টারনেট বা যেকোনো  রোজকার  সুবিধাজনক ব্যবর্হিত যন্ত্র ছাড়াও যে মানুষ জীবন অতিবাহিত করত সেটা নিজের চোখে দেখতে চাই।   

এর পর দ্বিতীয় বর চাইতাম অন্যের মন কে পড়ার ক্ষমতা। যখুনি ইচ্ছে হবে যেকোনো কারুর মন কে যেন পড়ে ফেলতে পারি। সে তখন ঠিক কি ভাবছে, কাকে নিয়ে ভাবছে বা কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত। মানুষের মনকে পড়া সবচেয়ে কঠিন। তাই মনে হয় এমন একটা ক্ষমতা পেলে মন্দ হত না। অনেক মানুষের মুখোশের পিছনে আসল চেহারাটা বেরিয়ে পড়ত।  তাহলে হয়ত আগামী দিনে একটু কম ঠকার সম্ভবনা  থাকত।  তার সঙ্গে এটাও বলি আমার এই ক্ষমতার কথা  সামনের জন যেন টের না পায় , নাহলে  তো আবার শুরু সেই অভিনয় ।  

অবশেষে তৃতীয় বরটি হলো একটা সত্যকে জানা। আর সেটা হলো মানুষ বা যে কোনো প্রাণীর  মৃত্যুর পর ঠিক  কি ঘটে ? মানুষ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলে তার আত্মার কি হয় ? আদৌ আত্মা  বলে কিছু আছে ? সত্যি  কি মানুষ মারা গেলে আবার জন্মায়? আর যদিও বা জন্মায় এই মৃত্যু আর জন্মের মাঝের সময়টা সে কোথায় থাকে আর কি ভাবে থাকে? 

যদিও পুরো ভাবনা চিন্তাটাই  অবাস্তব, তবুও কিছুক্ষণের  জন্য ভাবতে বেশ ভালই লাগলো।  একমাত্র  ভূতের  রাজাই পারে তার বরদান দিয়ে আমার এই অবাস্তব ভাবনাকে  বাস্তব করতে ।

Thursday, 11 June 2015

পঞ্চ পান্ডব

স্কুল জীবনের সব চেয়ে শ্রেষ্ঠ সময় আমার HS পড়ার সময় ।  প্রথম যখন ক্লাস্সে  যাই তখন একজনকেই চিনতাম  মধুমিতা, যাকে নার্সারী থেকে চিনি  আর বাকি সব অচেনা। কিন্তু কি ভাবে যেন আরো তিন জন (শর্বরী, রিতপা আর সময়িতা ) র  সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি  আলাপ পরিচয় হয়ে গেল আর সেই থেকে আমাদের পাঁচ জনের  একটা গ্রুপ হয়ে গেল।    স্কুল এ  ঢোকা থেকে শুরু করে বেরোনো পর্যন্ত এক সাথেই পাঁচ জন কে  সব সময় দেখা যেত।
এক সাথে টিফিন শেয়ার  করে খাওয়া , এক সাথে ক্লাস্সে পড়া  না শুনে বুক ক্রিকেট খেলা থেকে শুরু করে এক সাথে ক্লাস্সে নোটস  নেওয়া। অনেক সময় টিফিন এর আগেই আমাদের টিফিন খাওয়া শেষ হয়ে যেত, মানে লুকিয়ে লুকিয়ে ক্লাস চলা কালীন টিফিন খাওয়া , সেটা ছিল সব চেয়ে মজাদার ব্যাপার। পকেট মানি  বাঁচিয়ে  স্কুল ক্যান্টিন থেকে ফিস ফ্রাই খাওয়া ছিল একটা পিকনিক করার  মতন।  কত ছোট ছোট ব্যাপারে  কত আনন্দ করতাম আমরা। 
আমাদের পাঁচ জনের মধ্যে সব চেয়ে শান্ত শিষ্ট ছিল সময়িতা কিন্তু বেচারা আমাদের পাল্লায় পড়ে  কম বকুনি খায়নি।  একজন বাংলার টিচার ছিলেন উনি ক্লাস্সে  এসেই আমাদের পাঁচ জন কে  পাঁচ জায়গায় বসিয়ে দিতেন যাতে একে অপরের সঙ্গে কথা না বলতে পারি।  কিন্তু তা তে বিশেষ লাভ হত না।  আমাদের কোনো কারণ লাগত না হাসির।  এক এক দিন এমন হত যে  স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় বাসে  উঠে একা একাই হেসেছি কোনো কথা মনে করে ।  এত বন্ধুত্ব ভালবাসার মধ্যেও কিন্তু চলত মান অভিমানের পালা, কান্নাকাটি,  মাঝে মধ্যেই চলত আমার আর মধুমিতার মধ্যে  মন কষাকষি।   কিন্তু সে আর কতক্ষণ, হয়ত একটা পিরিয়ড কথা না বলে থাকা বা বাড়িতে গিয়েই  একটা ফোন করে sorry বলা । কত  সহজেই মিটে যেত আমাদের মধ্যে কলহ গুলো। অন্য কে নিয়ে মজা করায়  আমরা ছিলাম ওস্তাদ আর সেই নিয়ে অনকেই কি বিরক্তই না হত।  এমন একটা বয়স তখন আমাদের লাইফ এর বিভিন্য বিষয় কি ভীষণ কৌতূহল।  কত কত গোপন কথা, jokes share করা , যে গুলো কিনা জোড়ে  বলা যাবে না আর তখুনি পাঁচ টা  মাথা এক হয়ে যেত. আর তার কিছুক্ষণ পরেই একটা হাসির কলরব শুনত ক্লাস এ সবাই।  
সারা বছর আমরা অপেখ্যা  করে থাকতাম দূর্গা পুজোয় কবে বেরোব, কি পরবো  , কোথায় ঘুরব আর কি খাব। একবার মনে আছে শর্বরী পুজোয় নতুন জুতো পরে বেরিয়ে ঢাকুরিয়া ব্রিজ এর কাছে এমন  পড়ল যে আমরা সবাই হুর্মুরিয়ে এক সাথে পরলাম আর তার পরেই শুরু হলো সেই বিকট হাসি  সবার। খেয়াল ই করতাম না কে কি ভাবলো কে দেখল।  দুটো বছর আমরা চুটিয়ে এক সাথে আনন্দ  করেছি, পড়াশুনো করেছি , একে ওপর কে নিয়ে মজা করেছি। এসে গেল ফাইনাল পরিখ্যা। এক সাথে question paper  solve করা, অঙ্ক করা আর alternately  স্কুল কামাই করে বাড়িতে বসে পড়া। HS পরিখ্যার লাস্ট দিন মনে আছে বাড়িতে  থেকে সবার বাবা মা কেই আসতে বারণ করা  হয়েছিল কারণ  সেদিন plan  ছিল  স্কুল থেকে বেরিয়ে বন্ধুরা গল্প করতে করতে এক সাথে বাড়ি ফিরব । সামান্য ছোট  ব্যাপার গুলো ছিল কি আনন্দ দায়ক। এমনি হয় বোধয় ওই বয়সে। পরিখ্যার পর ঘনিয়ে এলো  result এর দিন। কোথায় tension ...আমরা তো সবাই মিলে  মধুমিতা র বাড়িতে বসে আড্ডা দিছি  কারণ  ওর  বাড়িটাই ছিল স্কুল এর সব চেয়ে কাছে। ফাইনাল list   টাঙানো হয়ে গেছে  আমাদের বাবা মা রা সব পৌছে গেছে  স্কুল এ কিন্তু আমাদের পাত্তা নেই।  হঠাথ আমাদের মধ্যে কে যেন বললো  কি রে স্কুল এ জাবি না, result বোধয় বেরিয়ে গেছে ।   আমরা তাড়াতাড়ি  স্কুল এ রওনা দিলাম, পৌছনোর আগেই নিজেদের মার্কস জেনে গেলাম, ভালো হয়েছে সবার ই।  তার পর কলেজ এ  ভর্তি। আমরা  চার জন গেলাম এক কলেজ এ  আর সময়িতা অন্য কলেজ এ।  খুব মিস করতাম ওকে।  Graduation এর পর আমি চলে গেলাম Pune তে law পড়তে , সময়িতা mba , রিতপা ca  আর মধুমিতা শর্বরী ভর্তি হলো master degree তে।  সবাই career করতে ব্যস্ত।  তখন ফোন বা social  নেটওয়ার্কিং সাইট ছিল না, কিছু চিঠি আদান প্রদান হয়েছিল আমার বন্ধুদের সঙ্গে।  তবে ছুটি তে এলে সবার সঙ্গে দেখা হত, হত না শুধু  সময়িতা র সঙ্গে।  কোথায় যেন হারিয়ে গেল।  তার পর নিজেদের লাইফ নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পরলাম কিছু বছর , কয়েকবার খুঁজেছিলাম orkut এ।  বাকি চারজন আমরা contact এ ছিলাম আজ ও আছি।
গত বছর কলকাতায় থাকা কালীন হটাথ দেখলাম ফেসবুক এ সময়িতা নামের একজন আমায় friend  request পাঠিয়েছে।   sirname  টা  চেঞ্জ হয়ে গাছে তবে ছবি দেখে চিনতে পারলাম পঞ্চ পান্ডবের সেই হারিয়ে যাওয়া   এক পান্ডব দেখা  দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল এর নম্বর আদান প্রদান হলো এবং একদিন দেখাও করে ফেললাম।  প্রায়ে বারো বছর পর দেখা এবং কথা হচ্ছে , কত কিছু যে বলার আছে, কোথা থেকে শুরু করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না. তবে এত টুকু মনে হয়নি এই বারো বছরের gap টা।  মনে হলো যেখানে আমাদের friendship টা  ছেড়ে গেছিল  সেখানেই রয়েছে।  একটু ও uncomfortable   বা hesitation  হয়নি সব কিছু share  করতে। এই এত গুলো বছরে দুজনের জীবনের ঘটে গেছে  নানান ঘটনা। দু ঘন্টা সময় খুব কম মনে হয়েছিল সব কিছু বলার জন্য।
আমি এখন ফিনল্যান্ড এর বাসিন্দা  রিতপা আছে  Hyderabad এ  আর বাকিরা কলকাতাতেই।  অপেখ্যা করে আছি  কবে দেশে গিয়ে আবার সবার সঙ্গে দেখা হবে। এখন আমরা সবাই খুব ব্যস্ত কেউ কর্ম জীবনে কেউ সংসার করতে আবার কেউ বা দুটোই আর আমাদের বন্ধুত্য্ টা  facebook  আর whatsapp এ বন্দী।  But thanks to  social networking  কারণ এগুলো না থাকলে হয়ত যোগাযোগ রাখাই হত না।  আমাদের সেভাবে দেখা করা  হয়না রেগুলার কিন্তু আমি নিশ্চিত আমাদের বন্ধুত্য একই জায়গায় রয়েছে। হয়ত পরিস্থিতি বা কাজের চাপে  সব সময় খোঁজ নেওয়া  হয়ে ওঠেনা কিন্তু আমি জানি চার জন বন্ধু আমার আজ ও আছে যাদের আমি ডাকলেই সারা  পাব ।